Mark Zuckerberg, founder and chief executive officer of Facebook Inc., speaks during the Facebook F8 Developers Conference in San Francisco, California, U.S., on Tuesday, April 12, 2016. Zuckerberg outlined a 10-year plan to alter the way people interact with each other and the brands that keep advertising dollars rolling at the world's largest social network. Photographer: Michael Short/Bloomberg via Getty Images

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। বর্তমানে উৎপাদন, অটোমেশন, বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহণসহ আরো বিভিন্ন খাতে এর ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স শিল্পের মূল্যমান ২০২৫ সালের মধ্যে ৫৯.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। বিল গেটস, মার্ক জাকারবার্গ থেকে শুরু করে অনেক প্রযুক্তি জগতের শীর্ষস্থানীয় নেতাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ভবিষ্যৎ নিয়ে দারুণ আশাবাদী। আর দারুণ সম্ভাবনাময় হওয়ার কারণে, বিশ্বের বড় বড় সব কোম্পানিও এখন এই শিল্পে বিনিয়োগ করতে শুরু করে দিয়েছে। চলুন পাঠক, জেনে নিই বিশ্বের ১০টি কোম্পানি কাজ করছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে।

অ্যামাজন

অ্যামাজন; Image Source: Amazon

অ্যামাজন এই মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোম্পানিগুলোর একটি। তারা প্রায় দুই দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিংয়ের পেছনে অর্থ ঢেলে যাচ্ছে। বর্তমানে এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠেছে অ্যামাজনের বেশ কিছু আভ্যন্তরীণ সিস্টেম। এদের মধ্যে রয়েছে অ্যালেক্সা পরিচালিত একো, অ্যামাজন ডট কমের রিকমেন্ডেশন ইঞ্জিন, অ্যামাজন গো, এবং তাদের ড্রোন প্রকল্প প্রাইম এয়ার। অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসও দিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সুবিধা, যার মধ্যে রয়েছে অ্যামাজন লেক্স, অ্যামাজন পলি, অ্যামাজন রিকগনিশন, অ্যামাজন মেশিন লার্নিং, অ্যামাজন সেজমেকার ইত্যাদি।

আইবিএম

আইবিএম; Image Source: IBM

আইবিএমের সবচেয়ে পরিচিত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রকল্প হলো ওয়াটসন। ওয়াটসন বিভাগ কাজ করে চলেছে ক্লাউড নির্ভর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তি গড়ে তোলার, যা তাদের নিজেদের পণ্যের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থার দ্বারাও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আর এই প্রযুক্তির প্রয়োগও ঘটছে বিচিত্র সব খাতে, ক্যান্সার গবেষণা থেকে শুরু করে রিটেইল পর্যন্ত। তাছাড়া এই মুহূর্তে আইবিএম প্রচুর পরিমাণ বিনিয়োগ করে চলেছে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি ও চিকিৎসা সেবার পেছনে।

ফেসবুক

ফেসবুক; Image Source: Getty Images

তিন বিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে, ফেসবুক বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। গ্লাসডোরের মতে, এই কোম্পানিটি ২০১৯ সালে কাজ করার জন্য অন্যতম সেরা স্থান। কর্মক্ষেত্র হিসেবে ফেসবুকের এমন সাফল্যের পেছনে বিশেষ অবদান রয়েছে নিত্যনতুন সব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স উদ্ভাবনের। ফেসবুক আর্টিফিশিয়াল এআই রিসার্চ নামক বিভাগটি কেবল এ খাতেই কাজ করছে। এছাড়া তারা মালিকানা নিয়েছে ম্যাসকুয়েরাদে এবং জুরিখ আইয়ের মতো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোম্পানিগুলোর। কৌশলগতভাবে নিজেদের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স গবেষণাগারকে আরো বেশি উন্নত ও সমৃদ্ধ করে তোলার ব্যাপারেও তারা সদা সচেষ্ট।

ইন্টেল

ইন্টেল; Image Source: AP

ইন্টেলও প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির পেছনে। নতুন মেশিন লার্নিং ফ্রেমওয়ার্ক এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স চিপ গড়ে তোলা ছাড়াও, তারা পৃষ্ঠপোষকতা করছে এ খাতে কাজ করা নবীন কিছু কোম্পানি ও স্টার্ট-আপকে। স্যাফরন টেকনোলজি তেমনই একটি কোম্পানি, যেটিকে অধিগ্রহণ করেছে ইন্টেল। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের খাতে বিশ্বসেরা হয়ে ওঠা।

মাইক্রোসফট

মাইক্রোসফট; Image Source: Getty Images

তথ্যপ্রযুক্তি জগতের দানবসম মাইক্রোসফট চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসার। আর এজন্য তারা ইতিমধ্যেই চালু করেছে স্কাইপ ভিডিও চ্যাট, কর্টানা ভয়েস অ্যাপ, বট পেমেন্ট, আজুর বট সার্ভিস, বিং কাস্টোমাইজড সার্চ, কাস্টম ভিশন সার্ভিস প্রভৃতি পরিষেবা। মাইক্রোসফটের বর্তমান পরিকল্পনা হলো, মানবিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের পেছনে সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ছাড়াও তারা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের অভিগম্যতার জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার এবং আর্থ প্রকল্পের পেছনে ৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে।

এনভিডিয়া

এনভিডিয়া; Image Source: Tom’s Hardware

এই প্রযুক্তি কোম্পানিটি জায়গা করে নিয়েছিল ফরচুন প্রণীত ২০১৭ সালে কাজ করার জন্য শ্রেষ্ঠ ১০০ কোম্পানির তালিকায়। তাদেরও রয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। বর্তমানে তাদের পণ্যসামগ্রীর মধ্যে প্রধান হলো বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার চিপ। এছাড়াও তারা এআরএম/জিপিইউ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছে, যা ড্রোন থেকে শুরু করে অটোমোবাইল, প্রায় সবধরনের ডিভাইসেই ব্যবহারযোগ্য। তাদের সাম্প্রতিক গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ), টাইটান ফাইভকে বিবেচনা করা হচ্ছে সর্বকালের সেরা জিপিইউ হিসেবে, যা এমনকি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিং নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে।

গুগল

গুগল; Image Source: Google

গুগল রিসার্চ নামে আগে যেটি পরিচিত ছিল, সেটির নতুন নাম এখন গুগল এআই, যেখানে গুগলের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। নতুন ধরনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বাজারে আনার ক্ষেত্রে গুগল বরাবরই তৎপরতা দেখিয়ে এসেছে। তাদের রয়েছে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, গুগল অটো এমএল ভিশন, ডিপমাইন্ড, টেন্সর ফ্লো প্রভৃতি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স পরিষেবা। এছাড়া ২০১৮ সালে তারা নিয়ে এসেছে গুগল লেন্স ও গুগল ডুপ্লেক্সের মতো অভূতপূর্ব কিছু সামগ্রী, যা থেকে বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না ভবিষ্যতে তারা আরো বড় কিছুর পরিকল্পনাই করছে।

অ্যাপল

অ্যাপল; Image Source: Apple

স্মার্টফোন পাওয়ারহাউজ অ্যাপলই হলো প্রথম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যারা সেই ২০১১ সালেই মোবাইল ডিভাইসে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সন্নিবেশন ঘটিয়েছিল। সেটি ছিল সিরি, আইফোনের নিজস্ব ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিচার। মাঝখানে কয়েক বছর অবশ্য অ্যাপল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ক্ষেত্রে একদম নতুন কিছু নিয়ে আসার ব্যাপারে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে এসেছে। তবে তারা ঘুরে দাঁড়াতে খুবই মরিয়া, যে কারণে তারা গত দুই বছরে সম্ভাবনাময় কিছু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স স্টার্ট-আপকে নিজেদের সাথে যুক্ত করেছে। এর একটি তাৎক্ষণিক ফলাফল হলো তাদের ফেশিয়াল রিকগনিশন সিকিউরিটি সিস্টেম, ফেস আইডি। ভবিষ্যতে এমন আরো অনেক নতুন প্রযুক্তিই যে তারা নিয়ে আসবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

স্যামসাং

স্যামসাং; Image Source: Getty Images

শীর্ষস্থানীয় এই স্মার্টফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন ডিভাইসগুলতে ক্যামেরা ফিচার, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তি যুক্ত করেছে। তাদের রয়েছে নিজস্ব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স পরিচালিত অ্যাসিস্ট্যান্ট বিক্সবি, মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরো সুখকর করে তুলছে। বিভিন্ন নতুন স্টার্ট-আপের পেছনেও তারা বিনিয়োগ করছে, এবং বিশ্বব্যাপী আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের গবেষণাগার গড়ে তোলার প্রকল্প প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে।

সিমেন্স

সিমেন্স; Image Source: Getty Images

বিশ্বের শীর্ষ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোম্পানিগুলোর একটি সিমেন্স। তারা শক্তি, বিদ্যুৎ, ডিজিটাইজেশন, অটোমেশন প্রভৃতি খাতকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। সবচেয়ে কম শক্তি খরচ করে সর্বোচ্চ উৎপাদনের ব্যাপারে তারা বদ্ধপরিকর। বর্তমানে এই কোম্পানিটির নিউরাল নেটওয়ার্ক এবং ডাটা অ্যানালিটিক্স বিভাগে কাজ করছেন ২০০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সহায়তায় তারা বৈদ্যুতিক মটর, শক্তি সরবরাহ এবং রেল প্রযুক্তিতে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করে চলেছে।

শেষ কথা

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের জাগরণে নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে এই কোম্পানিগুলো এক উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখছে। পাশাপাশি তারা নিজেরাও কম লাভবান হচ্ছে না। AI Boosts Industry Profits and Innovation শীর্ষক এক প্রতিবেদনে অ্যাকসেঞ্চার রিসার্চ অ্যান্ড ফ্রন্টিয়ার ইকোনমিক্স জানিয়েছে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে ৩৮ শতাংশ লাভ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, যাতে করে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ খাতের অর্থনীতি ফুলেফেঁপে ১৪ ট্রিলিয়ন ডলার স্পর্শ করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here