আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে, এবং ব্যবহারকারীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতাও ক্রমশ ইতিবাচক হচ্ছে। সম্প্রতি গার্টনারের একটি গবেষণায় ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ের মূল্যমান হবে ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলার।

তবে এখনো অনেক তরুণ উদ্যোক্তাই রয়েছেন যারা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সম্ভাব্য উপকারিতাগুলো সম্পর্কে অবগত নন। চলুন, এবার জেনে নেয়া যাক।

দক্ষতা বাড়ানো যায়; Image Source: Cab Startup

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দক্ষতা বৃদ্ধি করে

সম্পদের সর্বোচ্চ ও সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহার নিশ্চিত করতে কোনো ব্যবসাকে দক্ষতার সাথে চালানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া লম্বা দৌড়ে এটি আপনার ব্যবসায় সময় ও অর্থও বাঁচাবে। আর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স উদ্যোক্তাদের কাজের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। যেমন ধরুন, আপনি একটি স্পিচ রিকগনিশন সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করলেন, যেটি আপনার কথা শুনে শুনে তা নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করতে পারবে। তাহলে কিন্তু আপনার আর নোট নেয়ার জন্য আলাদা করে কোনো সহকারীর প্রয়োজন হবে না, ফলে বাড়তি খরচও হবে না। তাছাড়া মানুষ কাজ করতে গিয়ে টুকটাক অনেক ভুল করে ফেলতে পারে, যে আশঙ্কা যন্ত্রের ক্ষেত্রে কম। এভাবেই আপনি যেকোনো কাজে অধিক দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধি করে

আপনি যদি কোনো উপায় খুঁজতে থাকেন আপনার ব্যবসার পারফরম্যান্স ও আউটপুট বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে, সেক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আপনাকে দিতে পারে দারুণ সম্ভাবনাময় কিছু ফলাফল। যেমন ধরুন আপনি হয়তো একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি চালু করেছেন। এখন আপনি এমন একটি সফটওয়্যার তৈরি করলেন, যেটি আপনার ওয়্যারহাউজের বা উৎপাদন সুবিধার কাজের পরিমাণের উপর নজরদারি করতে পারে। এভাবে আপনার পক্ষে বোঝা সম্ভব হবে কোন কোন ক্ষেত্রে আপনি পিছিয়ে আছেন, এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আপনি আপনার উৎপাদনের পরিমাণ ফের বাড়িয়ে তুলতে পারবেন।

গার্মেন্টসে ব্যবহৃত হচ্ছে অটোমেশন; Image Source: Device Plus

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে ব্যবসায় অটোমেশন বৃদ্ধি পায়

অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজ ক্লরতে পারলে সময় ও অর্থ দুই-ই বেঁচে যায়, এবং সামগ্রিকভাবে ব্যবসায়ের উন্নতি হয়। আজকাল সব কারখানাতেই বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা হয় বটে, কিন্তু আপনি একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স পরিচালিত সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়তার হার আরো বাড়াতে পারেন। এর ফলে কায়িক শ্রম ও একঘেয়েমিতাও কমানো সম্ভব। যেমন যেসব কাজে কোনো সৃষ্টিশীলতা নেই, সেসব কাজ করতে করতে বিরক্ত হওয়ার বদলে ম্যানুয়ালি যন্ত্রের জন্য সেসব কাজ ছেড়ে দেয়া যায়। যেমন কারখানায় বোতলের মুখ লাগাতে বা পোশাকে বোতাম লাগাতে।

চ্যাটবট পারে ক্রেতার অভিজ্ঞতাকে আনন্দময় করে তুলতে; Image Source: Oracle Blogs

ক্রেতার অভিজ্ঞতাকে আনন্দময় করে তোলা যায়

আপনি যদি আপনার ক্রেতার অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক করে তুলতে পারেন, তাহলে আপনার ব্যবসার ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পাবে, এবং তারা বারবার আপনার কাছেই ফিরে আসবে। মনে করুন, আপনি একটি অনলাইন শপ খুলেছেন। বিভিন্ন জিজ্ঞাসা নিয়ে সম্ভাব্য ক্রেতারা আপনাকে প্রশ্ন করে। আপনার নিজের বা আপনার কর্মীদের পক্ষে সবার প্রশ্নের উত্তর তাৎক্ষণিকভাবে দেয়া সম্ভব নয়। অথচ কে না জানে, আজকাল মানুষ কত বেশি অস্থির ও অধৈর্য। আপনি উত্তর দিতে দেরি করলে হয়তো তারা ওই একই পণ্য অন্য কোথাও থেকে কিনে ফেলবে। তাই আপনি এমন কিছু প্রশ্নের তালিকা তৈরি করতে পারেন, যেগুলো ক্রেতারা সব সময় করে, এবং তারপর একটি চ্যাটবটকে সেসব প্রশ্নের উত্তর শিখিয়ে দিতে পারেন। এতে করে ক্রেতারা বেশির ভাগ প্রশ্ন করা মাত্রই তার উত্তর পেয়ে যাবে, ফলে আপনার কাছ থেকে তাদের পণ্য কেনার সম্ভাবনাও বহুগুণে বেড়ে যাবে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ভুলের সম্ভাবনা কমায়

মানুষ মাত্রই ভুল হয়। কিন্তু ছোটখাট নানা ভুলের কারণেও একটি ব্যবসার লাল বাতি জ্বলে উঠতে পারে। কীভাবে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল এড়ানো যেতে পারে? এক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে সেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সই। আপনি আপনার প্রতিটি কাজের জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স পরিচালিত সফটওয়্যার তৈরি করতে পারেন, যেগুলো আপনার সকল কাজের উপর নজর রাখবে এবং ভুল হলে তা ধরিয়ে দেবে। উদাহরণস্বরূপ আপনি চিন্তা করে দেখতে পারেন লেখার ব্যাপারে। লিখতে গিয়ে অনেক বানান ও ব্যকরণগত ভুল হয়ে যেতেই পারে। কিন্তু একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সফটওয়্যার কিন্তু খুব সহজেই পারে কোনো ভুল করা মাত্রই আপনাকে সেটি ধরিয়ে দিতে। ঠিক এভাবেই যেকোনো কাজেই এ জাতীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করে আপনি ভুলের প্রবণতাকে একেবারে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পারবেন।

সৃজনশীলতা বাড়ানোও সম্ভব; Image Source: Techgrabyte

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সৃজনশীলতাকে উদ্বুদ্ধ করে

ব্যবসায়ী জগতের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও যদি আপনি একজন কার্যকর খেলোয়াড় হয়ে থাকতে চান, তাহলে আপনাকে উদ্ভাবনী শক্তির অধিকারী হতেই হবে। আর সৃজনশীলতা হলো উদ্ভাবনের প্রথম ধাপ। আর এই সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়তা করতে পারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। যেমন ধরুন পুনরাবৃত্তি হয় এমন কাজগুলো যদি আপনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উপরই ছেড়ে দেন, তাহলে তো আপনার অনেকটা সময় বেঁচে যাচ্ছে, যে সময়টি আপনি কাজে লাগাতে পারেন চিন্তাভাবনার মাধ্যমে নতুন কোনো আইডিয়া বের করতে। তাছাড়া ইতিপূর্বের বিভিন্ন আইডিয়াকে একত্র করে মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে কিন্তু একেবারে নতুন কোনো আইডিয়াও সৃষ্টি করা সম্ভব।

কম প্রচেষ্টায় বেশি সুফল পাওয়া যায়; Image Source: Medium

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট বৃদ্ধি করে

মানুষ কোনো কাজ করলে তা থেকে বিনিয়োগের যতটা ফেরত পাওয়া যায়, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে সে পরিমাণ অনেক বেশি বেড়ে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় চ্যাটবটের কথা। একটি চ্যাটবটকে যদি প্রয়োজনীয় সকল তথ্য শিখিয়ে দেয়া হয়, তাহলে কিন্তু সে সম্ভাব্য ক্রেতার প্রায় সকল প্রশ্নের উত্তরই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দিতে পারবে। এর ফলে ক্রেতার মনে পণ্যটি সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে, যে কাজটি হয়তো একজন মানুষ কাস্টোমার কেয়ার ম্যানেজারের পক্ষে সম্ভব না-ও হতে পারত। এভাবে যত বেশি ক্রেতার মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে তাদেরকে পণ্য কিনতে উদ্বুদ্ধ করা যাবে, বিনিয়োগকৃত অর্থ উঠে আসার সম্ভাবনাও কিন্তু তত বাড়বে। অনেক ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এমনকি ১০০০ শতাংশ রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্টও দিয়ে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here