মাত্র এক দশক আগেও, এমনকি প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষের কাছেও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ছিল একটি অলীক কল্পনা। এমন একটি জিনিস যার দেখা কেবল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর বই আর চলচ্চিত্রের মেলে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এখন দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার একটি বিষয়, এবং এর ভবিষ্যতও দারুণ উজ্জ্বল। আমাদের চারপাশেই আমরা দেখতে পাচ্ছি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কিত বিভিন্ন উন্নয়নের দৃষ্টান্ত, এবং নিঃসন্দেহে আগামী বছরগুলোতে এ তালিকা আরো লম্বা ও সমৃদ্ধ হবে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ভবিষ্যৎ আসলে কেমন হতে চলেছে, সে বিষয়ে নানা জনের নানা অভিমত রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন তত্ত্ব ও ভবিষ্যদ্বাণীও। জ্ঞান-বিজ্ঞানের জগতে উজ্জ্বল নক্ষত্র যেসব ব্যক্তিত্ব, তারাও পিছু হটেননি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিজেদের ধারণার কথা ব্যক্ত করতে। এখন আপনাদের সামনে তুলে ধরব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে সেরকমই জনপ্রিয় ৯টি ভবিষ্যদ্বাণী।

স্টিফেন হকিং

স্টিফেন হকিং; Image Source: Getty Images

স্টিফেন হকিংকে নিশ্চয়ই নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। বিশ্বব্যাপী সমাদৃত তাত্ত্বিক পদার্থবিদ ও গণিতজ্ঞ ছিলেন তিনি। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে তিনি ছিলেন দারুণ আশাবাদী। তবে এর ভয়াবহতা ও হুমকি সম্পর্কে মানুষকে সাবধান করে দিতেও ভোলেননি তিনি।

“আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তৈরিতে সফলতা হতে পারে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘটনা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এটি মানব ইতিহাসের শেষ বড় ঘটনাও হতে পারে, যদি না আমরা এর ঝুঁকিগুলোকে মোকাবেলা করতে শিখি।”

অ্যান্ড্রু এনজি

অ্যান্ড্রু এনজি; Image Source: Wired

অ্যান্ড্রু এনজি একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী। পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উন্নতিকল্পেও তার অবদান অসামান্য। তাই তো তাকে বিবেচনা করা হয় এ খাতের একজন বিশ্বনেতা হিসেবে। তার মতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্রভাব একদিন ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বের সকল অঙ্গনে।

“এমন কোনো বড় ক্ষেত্রের কথা ভেবে বের করা দুঃসাধ্য বটে, যেটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের দ্বারা রূপান্তরিত হবে না। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, যাতায়াত ব্যবস্থা, বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং কৃষি। বিস্ময়করভাবে এই সকল ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পার্থক্য গড়ে দেবার মতো রাস্তা পরিষ্কার রয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সামনে।”

স্যাম অ্যাল্টম্যান

স্যাম অ্যাল্টম্যান; Image Source: Wall Street Journal

স্যাম অ্যাল্টম্যান অলাভজনক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওপেন এআই’র চেয়ারম্যান। সাম্প্রতিক সময় আমরা দেখেছি ঝুঁকির ভয়ে এ প্রতিষ্ঠানটিকে বিভিন্ন সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রাখতে। ব্যক্তি জীবনেও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণাই পোষণ করেন।

“আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সই সম্ভবত পৃথিবীর সমাপ্তি ঘটাবে। তবে এর আগে অবশ্যই এ বিষয়ক দারুন কিছু কোম্পানির উদ্ভব ঘটবে।”

ফেই ফেই লি

ফেই ফেই লি; Image Source: YouTube

পেশায় ফেই ফেই লি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক। তরুণ, উদ্যমী শিক্ষার্থীদের মনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলা তার কাজ। আর তাই তো তিনি এ ব্যাপারে খুবই আশাবাদী।

‘আমি এমন একটি পৃথিবীর কল্পনা করি, যেখানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আমাদেরকে আরো বেশি উৎপাদনশীল করে তুলবে, আরো কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে। আমরা তখন আরো বেশিদিন বাঁচব, এবং শক্তিরও পরিচ্ছন্ন ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারব।”

স্টিভ জার্ভেস্টন

স্টিভ জার্ভেস্টন; Image Source: Vox

স্টিভ জার্ভেস্টন স্পেস এক্স এবং টেসলার একজন বোর্ড মেম্বার। খুব কাছ থেকে তিনি কাজ করেছেন এলন মাস্কের সাথে। তাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের খুঁটিনাটি প্রয়োগ সম্পর্কে তিনিও খুবই উচ্চ ধারণা পোষণ করেন।

“মেশিন লার্নিং আমাদেরকে এমন সব সফটওয়্যার সলিউশন তৈরি করতে দিচ্ছে, যেগুলো মানব বোধশক্তিকেও ছাড়িয়ে যায়। এছাড়া এগুলো এ-ও দেখায় যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কীভাবে সকল শিল্পক্ষেত্রকেই করে তুলতে পারে আরো বেশি বলবান ও শক্তিশালী।”

টিম কুক

টিম কুক; Image Source: Apple

স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর অ্যাপলের নতুন সিইও হয়েছেন টিম কুক। সেই সুবাদে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি বিশারদদের কাছে অতি পরিচিত একটি নাম তিনি। এবং তিনিও বিশ্বাস করেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের অমিত সম্ভাবনার ব্যাপারে। পাশাপাশি তার মতে, আমাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে যেন আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে মানব কল্যাণেই ব্যবহার করি।

“যে কাজটি আমাদের সকলকে করতে হবে, তা হলো এটি নিশ্চিত করা যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এমনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে যা মানবসভ্যতার উপকারে লাগে, মানবসভ্যতার ক্ষতি যেন না করে।”

জিনি রমেটি

জিনি রমেটি; Image Source: CNBC

জিনি রমেটি আইবিএমের সিইও। তিনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সম্ভাবনা নিয়ে এতটাই আশাবাদী ও মুগ্ধ যে, এটির প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিও আর দশজনের থেকে একেবারেই আলাদা। তাই তো তিনি এটিকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হিসেবে অভিহিত করতেও রাজি নন।

“কিছু মানুষ এটিকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বলে ডাকে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এ প্রযুক্তিটি আমাদের বুদ্ধিমত্তা ও কর্মক্ষমতাকেই আরো উন্নত করে তুলবে। তাই আমার মনে হয়, বুদ্ধিমত্তাকে কৃত্রিমতা প্রদানের বদলে, আমরা আসলে এর মাধ্যমে আমাদের বুদ্ধিমত্তাকে বৃদ্ধি করতে চলেছি।”

কলিন অ্যাঙ্গেল

কলিন অ্যাঙ্গেল; Image Source: Getty Images

কলিন অ্যাঙ্গেল আই রোবটের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। মহাকাশ অভিযান ও সামরিক প্রতিরক্ষার জন্য রোবটের নকশা করাই তার প্রতিষ্ঠানের কাজ। ফলে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উত্থান ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তার মতো স্বচ্ছ ধারণা খুব কম মানুষেরই আছে। এবং সেই ধারণা থেকেই তিনি বেশ আগ্রহী সমাজ কীভাবে এটিকে সামাল দেয় তা দেখার ব্যাপারে।

“আমার মনে হয় সমাজ কীভাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে তা খুবই আগ্রহোদ্দীপক একটি বিষয় হবে। তবে হ্যাঁ, বিষয়টি বেশ ‘কুল’-ও হবে কিন্তু!”

দিমিত্রি আলপারোভিচ

দিমিত্রি আলপারোভিচ; Image Source: Getty Images

দিমিত্রি আলপারোভিচ একজন কম্পিউটার নিরাপত্তা শিল্পের নির্বাহী। তিনি ক্রাউড স্ট্রাইকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তাও বটে। তার মতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স একই সাথে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ দুদিকেই সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

“আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স খুবই উপকারী হতে চলেছে, কিংবা বলা যায় ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে, সাইবার সিকিউরিটির ক্ষেত্রে। কিন্তু একই সাথে এটি কিন্তু অপরাধীদের জন্যও অনেক সুবিধা করে দিতে চলেছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here